বাঙালী বাড়ীর শনিবারের সাধারন নিরামিষ খাবার

সাদা ভাত, মুগের ডাল, আলু-পনিরের তরকারী, আলু-বেগুন-পটল-কাঁঠালের বীজ-ডাটা-বড়ি দিয়ে তরকারী, কাঁচা ও পাকা পটল ভাঁজা, পাট শাঁক ভাঁজা, সেদ্ধ আমড়া, ডালমুট।

আজ শনিবার, বাড়ীতে অবধারিত নিরামিষ। মাঝে মাঝে আমি একাই আমিষ খেয়ে নিই বটে কিন্তু পবিত্র উল্টোরথের এই সময়ে মন ও তন সাত্বিক হয়ে আছে। সকালে আজ আগেই উঠে পড়েছি। সাড়ে আটটায় এলার্ম দেওয়া ছিল। একজনের আসার কথা ছিল কিন্তু সে আসেনি। ৯ টায় ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। হাত মুখ ধুয়ে খিদে পেয়ে গেল। বাজারে গেলাম মিষ্টির দোকানে। দুটো পরোটা ও বাদাম দেওয়া নিরামিষ সিঙ্গারার তরকারি দিয়ে গোজ মেরে ভীত তৈরি করে নিলাম। তারপর দুটো ছানার জিলাপি দিয়ে মিষ্টিমুখ করে একটু জল গ্রহণ করলাম। ফেরার পথে দুটো আম কিনে আনলাম। বাড়ি এসে সেটাকে টুকরো করে বিটনুন ও চাট মশলা ছিটিয়ে ঠুকরে ঠুকরে খেলাম। দোতালার বারান্দায় বসে জানলা দিয়ে জুলাই মাসের আবহাওয়া উপভোগ করছিলাম। এই প্রবল চকচকে রোদ, পরক্ষণেই অন্ধকার মেঘের দলার ছায়া। আবার রোদ মেঘ ফুঁড়ে বেরোবার মুখেই ঝিরি ঝিরি হটাৎ বৃষ্টি। আকাশে রামধনু আর সেটা হাজার বার দেখা সত্বেও প্রথম দিনের কৌতূহল দিয়ে দেখা আর অবাক হওয়া। সামনের পাকারাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘোড়া মানুষ ছুটে চলেছে সময়ের সাথে সাথে। ভাবনায় বয়ে যেতে যেতে নদীর আরেক প্রান্তে গিয়ে ঠেকলাম। কখন আড়াইতে বেজে গেছে খেয়াল করিনি। পেটের মধ্যে খিদের মোচড়ে সম্বিৎ ফিরে পেলাম। উপলব্ধি করলাম দেহ রূপী এ রাজ্যের জনগণ অনাহারে ভুগছে। কিন্তু আমরা বামপন্থী তাই অনাহার হলো আমাদের টুল ক্ষমতা দখলের। কিন্তু সম্প্রতি বাম থেকে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর পরে আমার মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। আমার রাজ্যের জনগণকে আমি অনাহারে রাখবো না তাই হেঁসেলের দিকে ঊর্ধস্বাসে ছুটে চললাম। আমার বরাদ্দের সবটুকু প্রসাদ আমি আমার রাজ্যের জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিলাম। সে এক দারুন স্বর্গীয় তৃপ্তি।

তাই গোবিন্দর কৃপায় হালকা গরিবানা মতে মুগের ডাল, আলু-পনির, কাঁঠালের বীজ-বেগুন-পটল-ডাটা-বড়ি-আলু দিয়ে তরকারী, কাঁচা ও পাকা পটল ভাজা, পাটের শাক ভাজা, আমড়া সেদ্ধ ও ডালমুট দিয়ে সালফা করে পিত্তরক্ষার এক অতিক্ষুদ্র প্রয়াস করলাম।

ঝ্য গ্রু

আপনাদের মতামত বা কোন জিজ্ঞাসা কমেন্ট করে জানান। রেসিপি জানতে কমেন্ট করুন নাম ও ইমেল সহ। নতুন আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন বাদিকে ঘণ্টার আইকন ক্লিক করে।